যৌথ উদ্যোগে (যাকে প্রায়ই জমির মালিক–ডেভেলপার চুক্তি বলা হয়) মালিক জমি দেন, আর ডেভেলপার অর্থায়ন করে ভবন নির্মাণ করেন। তৈরি ফ্ল্যাটের একটি অংশ পান মালিক, বাকিটা ডেভেলপার। নির্মাণের টাকা না জোগাড় করেই জমিকে ভবনে রূপ দেওয়া যায় — তবে ফলাফল নির্ভর করে চুক্তিতে কী লেখা আছে আর ডেভেলপার কে তার ওপর।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। সই করার আগে একজন যোগ্য আইনজীবীকে দিয়ে চুক্তি দেখিয়ে নিন।
১. আগে জমি দেখুন, তারপর ডেভেলপার
প্রস্তাব অর্থবহ হওয়ার আগে জমির পরিষ্কার চিত্র দরকার: মালিক কে, সব শরিক বা ওয়ারিশ সম্মত কিনা, রেকর্ডে কী আছে, রাস্তার প্রস্থ কত এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কী অনুমোদন দিতে পারে। সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে বোঝা যায় প্লটে বাস্তবে কয়টি ইউনিট হতে পারে।
২. ডেভেলপারকে যাচাই করুন
- কোম্পানি কি নিবন্ধিত রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার? রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এ ডেভেলপার নিবন্ধন, ডেভেলপারের দায়িত্ব এবং জমির মালিক–ডেভেলপার চুক্তির বিষয় আছে; রাজউক তাদের এলাকার নিবন্ধিত ডেভেলপারদের তালিকা প্রকাশ করে।
- সম্পন্ন ও চলমান প্রকল্প কি দেখা যায়, বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা যায়?
- স্থপতি ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কে?
৩. চুক্তিতে যা স্পষ্ট থাকা উচিত
- ভাগের অনুপাত — কোন পক্ষ কয়টি ইউনিট বা কত এলাকা পাবে, এবং ইউনিট চিহ্নিত করার উপায় (তলা, অবস্থান, আয়তন)।
- সময়সূচি: অনুমোদনের আবেদন, নির্মাণ শুরু ও হস্তান্তরের তারিখ, দেরি হলে কী হবে।
- অনুমোদন: আবেদন কে করবেন, খরচ কার, অনুমোদন না পেলে কী হবে।
- ভবনের স্পেসিফিকেশন, যাতে "স্ট্যান্ডার্ড" ফিনিশিং ব্যাখ্যার ওপর না ছাড়া থাকে।
- খরচ, কর ও ইউটিলিটি সংযোগ কীভাবে ভাগ হবে।
- মালিককে অগ্রিম কিছু দিলে তা ফেরতযোগ্য কিনা।
- বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে কী হবে।
৪. প্রকল্প চলাকালীন নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
সই করা প্রতিটি কাগজের কপি রাখুন, অনুমোদনের নম্বর ও তারিখ লিখে রাখুন, মাঝে মাঝে সাইটে যান এবং তারিখসহ অগ্রগতির ছবি চান। চুক্তি ও আইনজীবী নিরাপদ বললেই কেবল মূল মালিকানার কাগজ হস্তান্তর করুন।
৫. প্রথম ধাপ
বিনামূল্যে মূল্যায়নের জন্য জমির তথ্য পাঠান — অবস্থান, আয়তন ও আপনার মোবাইল নম্বর হলেই শুরু করা যায়। বিস্তারিত কাগজ পরে চাওয়া হবে।
